১৯০০ সালের ৮ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার মাড়গ্রাম গ্রামে
নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন মুহাম্মাদ কুদরাত-এ-খুদা।
বিজ্ঞানসাধক ও সফল সংগঠক ড. মুহাম্মাদ কুদরাত-এ-খুদা মাতৃভাষায়
বিজ্ঞানচর্চার একজন পথিকৃৎ। কর্মজীবনের সকল পর্যায়ে দেশের নানাবিধ উন্নতির
জন্য তিনি চেষ্টা করেছেন। স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর
সার্বিক আলোচনা ও এর ভবিষ্যত রূপরেখা সম্বন্ধে আলোকপাত-সমৃদ্ধ "কুদরাত-এ-খুদা
শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট" তাঁরই অসামান্য অবদান। শিক্ষা ক্ষেত্রে অবদানের
স্বীকৃতিস্বরূপ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৬ সালে ড. কুদরাত-এ-খুদাকে
একুশে পদক ও ১৯৮৪ সালে স্বাধীনতা পদক (মরণোত্তর) প্রদান করে সম্মানীত
করেন। চট্টগ্রাম বিজ্ঞান পরিষদ ১৯৭৯ সালে ড. কুদরাত-এ-খুদার নামে একটি
স্বর্ণপদক প্রবর্তন করে। ১৯৯০ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ড. মুহাম্মাদ
কুদরাত-এ-খুদার বসতভিটায় প্রতিষ্ঠিত হয় ড. মুহাম্মদ কুদরাত-এ-খুদা গ্রামীণ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিকাশ কেন্দ্র ও সংগ্রহশালা।
তাঁর জন্মদিনে 'গুণীজন' তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে।
কলিম শরাফীর জন্ম ১৯২৪ সালের ৮ মে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার
শিউড়ী মহকুমার খয়রাডিহি গ্রামে।
গভীর রবীন্দ্র-অন্তঃপ্রাণ শিল্পী ছিলেন কলিম শরাফী। রবীন্দ্রসঙ্গীতে অসামান্য
অবদানের জন্য তিনি জাতীয় সর্বোচ্চ সম্মান একুশে পদক ও স্বাধীনতা দিবস পদক
অর্জন করেছেন। পেয়েছেন নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক, জেবুন্নিসা-মাহবুবউল্লাহ
ট্রাস্ট পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা ও পদক। সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, পেয়েছেন মানুষের
অকৃত্রিম ভালবাসা ও সম্মান।
বাঙালীর স্বাধিকার আন্দোলন ও একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধেও সম্পৃক্ততা ছিল
কলিম শরাফীর। তাই মুক্তিযুদ্ধের সময় লন্ডনে অবস্থানকালে তিনি বাংলাদেশের
পক্ষে গড়ে তোলেন জনমত। গান গেয়ে, বিভিন্ন সভা-সমিতিতে অংশ নিয়ে
প্রবাসীদের উদ্বুদ্ধ করেন। একপর্যায়ে তিনি লন্ডন থেকে পাড়ি জমান
যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানেও তিনি এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখেন।
প্রবীণ রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী-বিশেষজ্ঞ, সংগ্রামী সংস্কৃতিসেবী কলিম শরাফীর
জীবন নানা সংগ্রাম ও লড়াইয়ের মন্ত্রে দীক্ষিত, দীপ্ত আর ঋদ্ধ।
তাঁর জন্মদিনে 'গুণীজন' তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের জন্ম ১৯১১ সালের ৫ মে। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার
ধলঘাট গ্রামে।
প্রশিক্ষণ শেষে বীরকন্যা প্রীতিলতার নেতৃত্বে বিপ্লবীরা ১৯৩২ সালের ২৪
সেপ্টেম্বর রাতে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করে সফল হন। আক্রমণ
শেষে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এ অবস্থায়
ধরা পড়ার আগে সঙ্গে রাখা সায়ানাইড বিষ খেয়ে আত্মাহত্যা করেন তিনি। কারণ
ধরা পড়লে বিপ্লবীদের অনেক গোপন তথ্য ব্রিটিশ পুলিশের মারের মুখে ফাঁস হয়ে
যেতে পারে।
প্রীতিলতার জন্মদিনে 'গুণীজন' তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে।
জাহানারা ইমামের জন্ম ১৯২৯ সালের ৩ মে মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে জাহানারা ইমামের নাম ছড়িয়ে পড়ে তাঁর
সামাজিক-রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য ৷ অতীতে তিনি রাজনীতি সচেতন হলেও
রাজনীতিবিদ ছিলেন না, ভবিতব্যই তাঁকে রাজনীতির অঙ্গনে নিয়ে আসে৷
স্বাধীনতাবিরোধী ধর্মান্ধ ঘাতক-দালালদের পর্যায়ক্রমিক পুনর্বাসনে অপমানিত ও
ক্ষুদ্ধ হয়ে জাহানারা ইমাম মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য 'মুক্তিযুদ্ধের
চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি' গঠন করেন। তিনি
এর আহবায়ক ছিলেন৷ এছাড়া তিনি এ বিষয়ে গণসচেতনতা গড়ে তুলতে পুণরায় কলম
হাতে তুলে নিয়েছিলেন৷ মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে মুক্তিযুদ্ধের
পক্ষের সকল বরেণ্য বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, রাজনৈতিক দল ও কর্মীবৃন্দ,
দেশপ্রেমিক তরুণ সমাজ এবং প্রজন্ম '৭১ তাঁর আহবানে এগিয়ে আসেন৷
তাঁর জন্মদিনে 'গুণীজন' তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে।
ফয়েজ আহমদ ১৯২৮ সালের ২ মে বিক্রমপুরের বাসাইলডোগ গ্রামে জন্মগ্রহণ
করেন।
সাংবাদিক কর্মজীবন এবং রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি তিনি প্রধানত
শিশুকিশোরদের জন্য ছড়া ও কবিতা লিখেছেন। তাঁর বইয়ের সংখ্যা প্রায় একশ। এর
মধ্যে শিশুকিশোরদের জন্য বই রয়েছে ৬০টি। অধ্যাপক কবীর চৌধুরী শিশুদের জন্য
রচিত তাঁর চারটি বই ইংরেজীতে অনুবাদ করেছেন।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য ফয়েজ আহমদ বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বাংলা একাডেমী পুরস্কার, শিশু একাডেমী পুরস্কার,
সাব্বির সাহিত্য পুরস্কার। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য ১৯৯১ সালে
তিনি একুশে পদক লাভ করেন। শিশু সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে নুরুল
কাদের শিশু সাহিত্য ও মোদাব্বের হোসেন আরা শিশু সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা
হয়।
তাঁর জন্মদিনে গুণীজন কর্মসূচি তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে।