প্রথম আলো বর্ষসেরা বইয়ের পুরস্কার পেলেন সনৎকুমার সাহা
সনৎকুমার সাহাকে ১৪১৭ বাংলা বছরের ‘প্রথম আলো বর্ষসেরা বই’ পুরস্কার দেয়া
হয়। তাঁর কবিতা-অকবিতা রবীন্দ্রনাথ নামক বইটি মননশীল শাখায় এবার অষ্টম
প্রথম আলো বর্ষসেরা বইয়ের পুরস্কার পেয়েছে। অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের
সভাপতিত্বে আবদুশ শাকুর, বেলাল চৌধুরী, হায়াৎ মামুদ ও বেগম আকতার কামালের
সমন্বয়ে গঠিত বিচারকমণ্ডলী ২৪ জানুয়ারি, ২০১২ সন্ধ্যা ছয়টায় হোটেল রূপসী
বাংলার বলরুমে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন। তাঁকে ৫০ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও
প্রশংসাপত্র দিয়ে প্রথম আলো আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা জানায়।
তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ২৪ জানুয়ারি, ২০১২
তিতুমীরের জন্মদিন
বিপ্লবী তিতুমীরের জন্মদিন আজ ২৭ জানুয়ারি। ১৭৮২ সালের ২৭শে জানুয়ারী
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের চব্বিশ পরগণা জেলার বশিরহাট মহকুমার আন্তঃপাতী
চাঁদপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
হিন্দু জমিদার ও ইংরেজদের যৌথ আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তিতুমীর ১৮৩১
সালের ২৩ অক্টোবর বারাসাতের কাছে নারিকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লা তৈরি
করেন। বাঁশ এবং কাদা দিয়ে দ্বি-স্তর বিশিষ্ট এই কেল্লা নির্মাণ করেন তিনি।
দুর্ভেদ্য এই বাঁশের কেল্লা তৈরিতে তাঁকে সহযোগিতা করেছিল
জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সব শ্রেণীর মানুষ। তিতুমীরের নেতৃত্বে হাজার হাজার
মানুষ ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীকে প্রতিরোধ করার জন্য সশস্ত্রভাবে প্রস্তুত ছিলেন।
তিতুমীর অত্যাচারিত-বঞ্চিত কৃষকদেরকে সংগঠিত করে লাঠি-সড়কি জাতীয় দেশীয়
অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী গড়ে তোলেন। এই কেল্লাতে অবস্থান করেই তিতুমীর
তাঁর সঙ্গী ও গ্রামের দরিদ্র কৃষকদের নিয়ে জমিদার ও ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠীর
বিরুদ্ধে তুমুল লড়াই গড়ে তুলেছিলেন। বেশ কয়েকবার ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী তাঁর
কাছে পরাজিত হয়েছিল। অবশেষে এই কেল্লাতে অবস্থান করেই তিতুমীর লড়াকু
বীরের ন্যায় মৃত্যুবরণ করেন ।
অশ্বিনীকুমার দত্তের জন্মদিন আজ ২৫ জানুয়ারি। ১৮৫৬ সালের ২৫ জানুয়ারি
তৎকালীন বরিশাল জেলার পটুয়াখালী মহকুমা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
অশ্বিনীকুমার দত্ত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের একজন অন্যতম বিপ্লবী। ভারতের
স্বাধীনতার জন্য তিনি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন।
তিনি আমৃত্যু রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে বরিশালবাসীর জন্য নিবেদিত প্রাণ
হিসেবে কাজ করেছেন। ১৮৮৪ সালে আশ্বিনী কুমার দত্ত প্রতিষ্ঠা করেন ব্রজমোহন
বিদ্যালয় । ব্রজমোহন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৫ বছর পর ১৮৮৯ সালে তিনি
ব্রজমোহন বিদ্যালয়কে কলেজরূপে প্রতিষ্ঠা করেন। অশ্বিনীকুমারের সর্বত্যাগী
নেতৃত্ব ও শিক্ষা আন্দোলনের ফলে কয়েক বছরের মধ্যে এই কলেজ ও বরিশাল
সারাবাংলায় খ্যাতি অর্জন করে।
নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মদিন আজ ২৩ জানুয়ারি। ১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারী
উড়িষ্যার কটক শহরে এক বাঙালি পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়িত করার জন্য যে সকল মহান
ব্যক্তি, বিপ্লবী, লড়াকু যোদ্ধা জীবন উৎসর্গ করেছেন, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু
তাঁদের মধ্যে অন্যতম।
অহিংসায় নয়, উদারতায় নয়, শক্তি প্রয়োগ করেই ব্রিটিশকে ভারত থেকে তাড়াতে
হবে- এই মন্ত্রকে ধারণ করে তিনি ব্রিটিশ শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে আমৃত্যু
লড়াই-সংগ্রাম চালিয়েছেন । ভারত উপমহাদেশে সশস্ত্র বিপ্লববাদীদের সংগঠক
হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যে কারণে বিপ্লবী যোদ্ধারা
তাঁকে নেতাজী বলে সম্বোধন করতেন। তিনি এ উপমহাদেশের স্বাধিকার
আন্দোলনেরও অন্যতম প্রবক্তা ছিলেন।
ধারণা করা হয় নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু ১৯৪৫ সালের ১৯ আগষ্ট টোকিও যাবার
পথে তাইওয়ানে এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন। তবে তাঁর মৃত্যুর সঠিক তারিখ ও
স্থান সম্পর্কে এখনো বিতর্ক রয়েছে। তাঁর দেহাবশেষ কোনোদিনও উদ্ধার করা
যায়নি।
জিয়াউর রহমানের জন্মদিন আজ ১৯ জানুয়ারি। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারী বগুড়া
জেলার বাগবাড়ী গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করার কাজে ভারতে
চলে যান এবং ১নং সেক্টরের কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জুন মাস
পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এই সেক্টরের দায়িত্ব পালন করেন।
জুলাই মাসের ৭ তারিখে জিয়াউর রহমানের নিজের নামের আদ্যক্ষর দিয়ে গঠিত
হয় 'জেড-ফোর্স' বা 'জিয়া-ফোর্স। বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামে 'জেড- ফোর্স'
এক বিশেষ অবদান রেখেছে।
১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বিচারপতি সায়েম রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলে
জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে সংঘটিত এক ব্যর্থ
সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন। তাঁকে ঢাকার জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে সমাহিত
করা হয়।